অবসর বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর হতে পেল নিয়োগ পত্র, ৪ জন এখন মৃত

Read Time:3 Minute

24Hrs Tv ওয়েব ডেস্ক : এখন কারও বয়স ৬৩,কারও ৬৫, কেউ আবার ৭০ পার করেছেন। অবসর বয়স পেরিয়ে এই বৃদ্ধ বয়সে প্রাথমিক স্কুলে চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পেলেন হুগলির ৬২ জন। নিয়োগ পত্রে আরও ৪ জনের নাম দেওয়া হলেও তারা এখন মৃত। হুগলির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে শোরগোল। সাম্প্রতিককালে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় রাজ্যের সিবিআই তদন্ত চলছে। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী সহ শিক্ষা দপ্তরের একাধিক উচ্চমানের ব্যক্তিরা ইতিমধ্যে জেলে। আর ঠিক এমন সময় হুগলি জেলার এই প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের নিয়োগ পত্রকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে যখন গোটা রাজ্য উত্তাল, ঠিক সেই সময়ে বয়স পেরিয়ে যাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের কেন নিয়োগের লেটার দেওয়া হচ্ছে, এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। নিযোগ লিস্টে নাম উঠেছে শুনে পান্ডুয়ার সার্কেলে খোঁজ নিতে এসেছিলেন নিখিল কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বয়স এখন সত্তরের কাছাকাছি। নিখিলবাবু এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, তিনি প্রাথমিকের পরীক্ষা দিয়েছিলেন ১৯৭৭-৭৮ সালে। তারপর চাকরি না পেয়ে তাঁরা আদালতে মামলা করেছিলেন ১৯৮২ সালে। সম্প্রতি সেই মামলার রায় কোর্ট শোনানোর পর, তাঁদের সময়ের প্রার্থীদের নিয়োগের রায় দিয়েছিল ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর হাইকোর্ট।

প্রার্থী দীনবন্ধু ভট্টাচার্য পান্ডুয়া সার্কেলে চাকরি পাওয়া আরও এক পর্থী। তিনি বলেন, সে সময় বামফ্রন্ট সরকার ছিল। আমরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলাম। তবুও আমরা চাকরি পাইনি। পরে প্যানেল বাতিল হয়ে যায়। এখন শিক্ষা সংসদ থেকে নিয়োগপত্র পেয়েছি। কী করে হল জানি না। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তের দাবি করেছে এবিপিটিএ। এই প্রসঙ্গে এবিপিটি-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহন পণ্ডিত বলেন, ”সারা দেশে এই ধরনের ঘটনা কোথাও হয়নি। অবসরের বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে। এ এক অভূতপূর্ব ঘটনা। আমরা তদন্ত চাই। বিষয়টার সত্য উদঘাটিত হোক।” অকর্মণ্যেদের দিয়ে কাজ করালে এমনই হয় বলে অভিযোগ বিজেপির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *