সুপ্রীম কোর্টের রায়কে ড্রিবলিং মোদির, দেশ গঠনে মুক্তহস্তে অর্থ দান ঘিরে বিতর্ক

Read Time:4 Minute

24 Hrs Tv:নিজস্ব প্রতিনিধি: লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরাট ধাক্কা খেয়েছে মোদি-শাহরা। নির্বাচনী বন্ড অসাংবিধানিক রায় ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের তরফে পাঁচ বিচারপতির সর্বসম্মতিতে বলা হয়,’ ইলেকটোরাল বন্ড বা নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলিকে আর্থিক সাহায্য নাগরিকের তথ্যের অধিকার লঙ্ঘন করে। এই আইন অসাংবিধানিক’। লোকসভা নির্বাচনের আগেই সুপ্রিম কোর্টের এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্বভাবতই অস্বস্তিতে মোদি-শাহের সরকার। এমন আবহে নির্বাচনের আগে রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সর্বসাধারণকে দেশ গঠনে দলের তহবিলে মুক্তহস্তে অর্থ দান করতে অনুরোধ করলেন। টুইট করে দলের তহবিলে অর্থ দানে উৎসাহ দেন মোদি।

এক্স হ্যান্ডেলে মোদি দাবি করেন, এই অনুদান দেশ গঠনের কাজে আসবে। নমো অ্যাপের মাধ্যমে দেশবাসীকে দলীয় তহবিলে অর্থ দান করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। লেখেন, “আমি @BJP4India-তে অবদান রাখতে পেরে এবং বিকশিত ভারত গড়ায় আমাদের প্রচেষ্টাকে জোরদার করতে পেরে আনন্দিত। আমি সকলের কাছে অনুরোধ করছি, নমো অ্যাপের মাধ্যমে দেশগঠনে অনুদানের অংশ হন।”লোকসভা নির্বাচনের আগেভাগে ১ মার্চ অনুদান কর্মসূচি শুরু করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। তিনি দলের তহবিলে ১ হাজার টাকা দান করেন। যার পর এক্স হ্যান্ডেলে নাড্ডা লেখেন, পিএম মোদির বিকশিত ভারতের স্বপ্নপূরণে আমি বিজেপির তহবিলে দান করেছি। চলুন, সকলে মিলে আমরা নমো অ্যাপের মাধ্যমে দেশ গঠনে দান করি।

একদিকে যখন মোদি-নাড্ডারা দেশের নামে দলের তহবিলে মুক্তহস্ত দানে উৎসাহ দিচ্ছেন, তখন অন্যদিকে দেশের সবচেয়ে ধনী দল বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী গত আর্থিক বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ আয় বেড়েছে গেরুয়া শিবিরের। ২০২২-২৩-এ বিজেপির দলীয় তহবিলে পড়েছে ৭১৯ কোটি টাকা। ২০২১-২২-এ যা ছিল ৬১৪ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, নির্বাচনী বন্ড নিষিদ্ধ হওয়ার পরেই অনুদান কর্মসূচি শুরু করেছে বিজেপি। প্রসঙ্গত, দলীয় তহবিলে ব্যক্তিগত ভাবে ২ হাজার টাকা দান করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সঙ্গে বিজেপির নেতা-কর্মীদেরও দেশ গঠনে দলের তহবিলে মুক্তহস্তে অর্থ দান করতে অনুরোধ করেন।

নির্বাচনী বন্ড অসাংবিধানিক, শীর্ষ আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশের প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘ফের একবার নোটের বদলে ভোটের ক্ষমতা জারি হবে’। কিন্তু রবিবার যেভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইলেকটোরাল বন্ড বা নির্বাচনী বন্ড নিয়ে সুপ্রীম কোর্টের রায়কে পাস কাটিয়ে দলীয় তহবিলে ব্যক্তিগত ভাবে মুক্তহস্তে অর্থ দান করতে অনুরোধ রাখলেন তাঁতে করে নির্বাচনের আগে শাসক বিরোধী তরজা সঙ্গে বিতর্ক দু’ইকেই আরও উস্কে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *