Read Time:4 Minute

‘আমাকে জেলে পুরলেও আামি জেল ফুটো করে বেরিয়ে আসব’: মমতা

24 Hrs Tv:নিজস্ব প্রতিনিধি : ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে হুঁশিয়ারির সুর। হুঁশিয়ারির ঢঙে বলেন, ‘তাঁকে জেলে ঢোকানো হলে‌ও তিনি বিজেপি বিরোধী লড়াই থেকে এক ইঞ্চিও সরবেন না’! বৃহস্পতিবার শান্তিপুরের সরকারি পরিষেবা প্রদান কর্মসূচির সভা থেকে তৃণমূলের বিভিন্ন নেতার গ্রেফতারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘আমাকে জেলে পুরলেও আামি জেল ফুটো করে বেরিয়ে আসব’!

মমতার ওই বক্তব্যকে প্রত্যাশিত ভাবেই রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য খোঁচা দিতে ছাড়েননি। শমীকের কথায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অপরাজেয়। কিন্তু তিনি আর তাঁর দল এবং সরকারের বিসর্জন ঠেকাতে পারবেন না। সময় ঘনিয়ে এসেছে। সেই কারণেই হয়তো এই কথা বলেছেন’।

নাম না করে বিজেপির উদ্দেশে মমতা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, ‘আমরা সব চোর? আর আপনারা সাধু? সব চোরেদের জমিদার, জোতদার। মানুষের টাকা লুট করে বড় বড় কথা! চোরের মায়ের বড় গলা। শূন্য কলসি বাজে বেশি’। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ আরও বেশ কয়েকজন জেল হেফাজতে রয়েছে। শান্তিপুরের মঞ্চ থেকে মমতা বলে দেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা কেউ চোর নয়। হাতের পাঁচটা আঙুল সমান হয় না। তাই বলে হাত কেটে দিতে হবে’?

আত্মসমালোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সামান্য ভগ্নাংশের লোক দুর্নীতিতে জড়িয়ে গিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দলের তরফে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা বলে গোটা তৃণমূলই ‘চোরেদের দল’, তা নয়’! কোনও রাজনৈতিক দল ধারাবাহিক ভাবে ক্ষমতায় থাকলে কিছু ‘বেনোজল’ ঢোকে। রাজনীতির কারবারিদের অনেকেই এ কথা বলে থাকেন। সিপিএম জমানাতেও নব্বইয়ের দশক থেকে এই আলোচনা ছিল রাজ্য রাজনীতিতে। সম্ভবত তার রেশ টেনেই বৃহস্পতিবার মমতা বলেন, ‘সিপিএম থেকে কিছু লোক আমাদের দলে ঢুকেছিল। তারা বিভিন্ন অন্যায় করেছে’।

এরই পাশাপাশিই এদিনের সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী কয়লা ও গরু পাচার নিয়ে বিএসএফ এবং বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলেন। বলেন, ‘গরু পাচার, কয়লা পাচার যা হচ্ছে তাতেই তৃণমূলের নাম করছে! গরু পাচার হচ্ছে সীমান্ত দিয়ে। ওখানে পাহারা দেয় বিএসএফ। কয়লা কে দেখে? সিআইএসএফ। কাদের সংস্থা? কেন্দ্রের। কোল ইন্ডিয়া কাদের? কেন্দ্রের। সব তোমাদের! আর দোষ তৃণমূলের’?

প্রসঙ্গত, গরু পাচার মামলায় এখনও জেলবন্দি সকন্যা তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। কয়লা পাচার মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিক বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। এমনকি অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় নারুলাকে‌ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ওই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *