Read Time:4 Minute

‘জানি না আসন নিয়ে কারা পরামর্শ দিচ্ছেন মমতাকে’: জয়রাম রমেশ

24 Hrs Tv:নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনে ‘একা লড়াই’য়ের কথা ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি লাগাতার এই কথা বলে চলেছেন। শুধুমাত্র বাংলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, জাতীয় স্তরেও কংগ্রেসকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৪০ আসনও পাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মমতা। এনিয়ে ‘জানি না আসন নিয়ে কারা পরামর্শ দিচ্ছেন মমতাকে’ এমন মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে শুক্রবার কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশকে।

সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস মুখপাত্র বলেন, ‘কংগ্রেস এবং তৃণমূল, দুই দলই বিজেপি-বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের শরিক। মতানৈক্য দূরে সরিয়ে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। এটা বিধানসভা নির্বাচন নয়, লোকসভা নির্বাচনের জন্য এই জোট’। শুধু বাংলাই নয়, ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’ নিয়ে রাহুল গাঁধী উত্তরপ্রদেশেও যাবেন বলে জানান জয়রাম। রাহুল উত্তরপ্রদেশ কেন যাচ্ছেন না, প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা, তার জবাবও দিলেন কংগ্রেস মুখপাত্র।

এদিন জয়রাম বলেন, ‘আজ ২১তম দিনে ঝাড়খণ্ডে রয়েছি। এরপর ওড়িশা, ছত্তীসগঢ় হয়ে অবশ্যই উত্তরপ্রদেশ যাব। মমতাদির মনে কোনও সন্দেহ থাকা উচিত নয়। ১১ দিন আমরা উত্তরপ্রদেশে থাকব। তারপর মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত হয়ে ২০ মার্চের মধ্যে মুম্বইয়ে যাত্রা শেষের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের’।

জোট প্রশ্নে মমতা বার বার যেভাবে কংগ্রেসকে আক্রমণ করছেন। এনিয়ে জয়রাম বলেন, ‘উনি কংগ্রেসকে নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। সেই নিয়ে কিছু বলতে চাইছি না আমি। উনি বার বার বলছেন যে উনি ইন্ডিয়া জোটের শরিক। আমরাও বলছি, আমরা ইন্ডিয়া জোটেই রয়েছি। আমাদের কর্তব্য জোটকে আরও মজবুত করে তোলা। আমরা বিজেপি-র বিরুদ্ধে, আরএসএসের মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়ছি। নিজেদের রাজনৈতিক যে মতভেদ রয়েছে রাজ্যস্তরে, জাতীয় স্তরের কথা ভেবে ইন্ডিয়া জোট তৈরি হয়েছে। তাই সেদিকে নজর দেওয়া উচিত’।

প্রসঙ্গত,গত শুক্রবার ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) প্রধান তথা ঝাড়খণ্ডের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের গ্রেফতার নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই গ্রেফতারির ইস্যুতে মমতার নির্দেশে লোকসভা এবং রাজ্যসভায় কক্ষত্যাগ করেন তৃণমূল সাংসদেরা। অন্য বিরোধীরাও একই কারণে কক্ষত্যাগ করলেও, তৃণমূল ‘ইন্ডিয়া’র সঙ্গে এক ছাতার তলায় আসতে চাইল না।

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা যাচ্ছে, তারা নিজেদের মতো করে কক্ষত্যাগ (ওয়াক আউট) করেছে। রাজনৈতিক শিবির মনে করছে, অ-কংগ্রেসি এবং অ-বাম একটি শিবির গড়ার লক্ষ্যে এগোতে চাইছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। অর্থাৎ বিরোধী জোটের মধ্যে জোট। সংসদে ওয়াক আউট আর সংসদীয় এই পদ্ধতিতে ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির প্রচেষ্টায় মমতার দলের আলাদা করে কক্ষত্যাগ। এইভাবে লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃতীয় বিকল্পের সন্ধান রাজনৈতিক বিশেষঞ্জদের মত, এতে বিজেপি বিরোধী ভোট ভাগাভাগি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। যা আখেরে বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদীকে ইভিএমে ডিভিডেন্ড দিলেও দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *