ছাত্র বিক্ষোভের মুখে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস,পড়ুয়াদের ‘গো ব্যাক’ স্লোগান

Read Time:5 Minute

24 Hrs Tv: নিজস্ব প্রতিনিধি: এবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে কালো পতাকা দেখানো হল রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে। বুধবার ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস। সেজন্য সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। কিন্তু তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও এআইডিএসও- এর পক্ষ থেকে কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়।

বুধবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন রাজ্যপাল। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে ছাত্র দের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। এআইডিএসও’র তরফে রাজ্যপালকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয় বুধবার ।

কালো পতাকা নিয়ে সকাল থেকেই অপেক্ষা করছিল পড়ুয়াদের দুই সংগঠন। কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি চালু করা যাবে না। অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ করতে হবে। একাধিক দাবি ছাত্র সংগঠনগুলির তরফ থেকে তোলা হয়। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি চালু করার বার্তা দিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আসছেন। এই অভিযোগ করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, কেন্দ্র-রাজ্য উভয় সরকার সামগ্রিকভাবে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে । রাজনীতিকরণের চেষ্টা করছে। আর এর জেরে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ পড়ুয়ারা। তাই পড়ুয়াদের স্বার্থে স্লোগানের মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানালেন এআইডিএসও’র কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক মিজানুর রহমান ।

মিজানুর আরও বলেন,’কেন্দ্রীয় সরকার, ইউজিসি, রাজ্যপাল,রাজ্য সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেভাবে জাতীয় এবং রাজ্য শিক্ষানীতির মধ্যে দিয়ে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে সবদিক থেকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করে শিক্ষায় বেসরকারীকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণ এবং দুর্নীতির রাস্তা খুলে দিচ্ছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা করছি এবং ধিক্কার জানাচ্ছি । সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলিকে রক্ষা করতে আমরা যে আন্দোলন প্রথম দিন থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে গড়ে তুলছি, সেই আন্দোলনকে আরও তীব্র থেকে তীব্রতর করব । কোনও অজুহাতেই সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস হতে আমরা দেব না ।’

ছাত্র সংগঠনের অভিযোগ করেছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত কলেজে স্নাতকের পরীক্ষার ব্যবস্থা কলেজের হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে। এর জেরে দুর্নীতি বড় আকার নিতে পারে। তাছাড়া এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কৌশলে বেসরকারিকরণের চক্রান্তও আছে। দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। এমতাবস্থায় ন্যায়পাল নিয়োগ করতে ইউজিসি’র ‘কালা’ সার্কুলারের বাতিল করতে হবে। পাশপাশি, রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের মামলার খরচ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে তোলা হচ্ছে বলে দাবি এআইডিএসও’র। এই প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি করেছে কলকাতা জেলা কমিটি।

এদিনের অনুষ্ঠানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন । রাজ্যপালের সঙ্গে তাঁর আলাপ করিয়ে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য শান্তা দত্ত ।কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের সামনে রাস্তায় পড়ুয়ারা ফেস্টুন, ব্যানার নিয়ে অপেক্ষা করেন রাজ্যপালের জন্য। তাদের হাতে কালো পতাকাও ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে রাজ্যপালের কনভয় কলেজ স্ট্রিট এসে পৌঁছায়। সেই সময় দুই ছাত্র সংগঠনের তরফ থেকে রাজ্যপালকে কালো পতাকা দেখানো হয়। কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে স্লোগান তোলা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *