ভোটের আগে বিচারপতি পদ থেকে আচমকা ইস্তফা, বড় ঘোষণাতে জল্পনা অব্যাহত বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

Read Time:5 Minute

24 Hrs Tv:নিজস্ব প্রতিনিধি: লোকসভা নির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। মঙ্গলবার পদত্যাগ করবেন তিনি। তার পর বড় ঘোষণা করবেন বলেও জানান।

একটি বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যেম দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, “আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তো বটেই। আমি খুব শীঘ্র পদত্যাগ করতে চলেছি বিচারপতির পদ থেকে। মঙ্গলবার ইস্তফা দেব। এই সিদ্ধান্তের বিশদ কারণ পরে বলব। আজ শুধু এটুকু বলব যে, আদালতে আমি যে কাজটা করি, সেই কাজের সময়টা আমার অন্তর বলছে যে শেষ হয়েছে। এখন হয়ত আমাকে বৃহত্তর ক্ষেত্রে যেতে হবে, মানুষের মধ্যে। আমি একটা বৃহত্তর ক্ষেত্রে পদার্পণ করতে চাই। কারণ আদালতে তাঁরাই আসেন, যাঁরা মামলা করতে চান। তার বাইরে বহু মানুষ পড়ে থাকেন। আমার মনে হয়েছে বিচারব্যবস্থায়, আদালত নামের যে প্রতিষ্ঠান, যেখানে ছ’-বছর বিচারপতি হিসেবে কাজ করলাম, সেখানে আমার কাজ শেষ হয়েছে। এখানে আর নতুন করে কিছু করার নেই।”

অবসর নিয়ে বৃহত্তর ক্ষেত্রে পা রাখতে চলেছে এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, “এ নিয়ে প্রকৃত কোনও সিদ্ধান্ত আমি আজই গ্রহণ করব না। কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হব, যদি হইও, সেটা আমি আজ বলব না। আমার বিচারের কাজ আর কিছু বাকি নেই। সামান্য কয়েকটা মামলা হাত থেকে ছেড়ে দেব না। আর কোনও মামলা স্থগিত করব না। আমার বিচারের যে কাজ সেটা শেষই হয়ে গিয়েছে। সামান্য বাকি আছে। কালকের জন্য তুলে রেখেছি। পরশু বিদায় নেব।”

রাজনীতির ময়দানে তাঁকে কি দেখা যাবে এই নিয়ে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “রাজনীতির ময়দানেই আমি যাব। কোন রাজনৈতিক দলের হয়ে শুরু করব, সেটা আজই বলছি না। কাল আমার যে সামান্য কাজটুকু আদালতে রয়েছে, সেটুকু করে চলে যেতে চাই, যাতে কেউ বলতে না পারেন যে আমার কোনও সিদ্ধান্ত একপেশে হয়েছে। কারণ আমি গত সাত দিন ছুটি নিয়েছিলাম ব্যক্তিগত কারণে। কোনও রায় দিইনি। আগামী কালও আদালতে যখন বসব, শুধু কতগুলি মামলা ছেড়ে দেব, যেগুলি শুনানির জন্য মার্ক করা আছে। তবে রায় দেওয়ার নেই। আর কিছু করব না। আদালত থেকে উঠে আসব। প্রধান বিচারপতিকে জানিয়ে দেব মৌখিক ভাবে। তার পর পরশু সকালে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেব ফার্স্ট আওয়ারেই।”

নির্বাচনে দাঁড়ানো নিয়ে বলেছেন, “আমার হাতে নেই সেটা। আমি যদি আদৌ কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিই, বৃহত্তর ময়দানে তো নামবই। রাজনৈতিক দলে না গেলে আমার মনে হয়েছে যে ,আদালতের ক্ষেত্রের বাইরে যে বহু সাধারণ মানুষ আছেন, তাঁদের কাছে পৌঁছনো যাচ্ছে না। ভোটে দাঁড়ানো, না দাঁড়ানো, এই বিষয়ে কোনও কথা আজ বলব না। কোনও রাজনৈতিক দলে যদি যাই, এখনও ভোট ঘোষণা হয়নি। যদি যোগ দিই কোনও দলে, তারা সিদ্ধান্ত নেবে।”

রাজনঈটীক দলের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গে বলেন, “সেটা ভেবেচিন্তে দেখতে হবে। টিকিট নেওয়াটা কতদূর সঙ্গত হবে। এরকম হতে পারে যে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, রাজনীতি মানে ক্ষমতাদখলের লড়াই, সেই লড়াইয়ের গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হচ্ছে নির্বাচন। সেই নির্বাচনে আমি যেতে পারি। নাও যেতে পারি। টিকিট দেওয়া, না দেওয়া, তার পর যদি সেই রাজনৈতিক দল ভাববে। যদি কোনও দলে যোগ দিই, অনেক দলই আছে, কংগ্রেস আছে, বাম দল আছে, বিজেপি আছে, ছোট অনেক অন্য দল আছে, তারা যদি মনে করে আমাকে টিকিট দেবে, তখন আমি ভেবে দেখব যে সেই প্রার্থীপদ আমি নেব কি, নেব না। এখন চূড়ান্ত কোনও কথা বলব না। যখন সময় আসবে, আপনারা জানতে পারবেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *