শেখ শাহজাহানের গ্রেফতারির ইস্যুতে কার্যত চুপ মমতা

Read Time:4 Minute

24 Hrs Tv:নিজস্ব প্রতিনিধি: ৫৬ দিন ধরে বেপাত্তা থাকার পর রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করেছে সন্দেশখালির দাপুটে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানকে। আপাতত ১০ দিন তাঁর ঠিকানা ভবানী ভবন। এতদিন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়েছে ‘বাঘ’কে খাঁচাবন্দীর ইস্যুতে। মাঝের এই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শাহজাহানের সমর্থনে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে জোর সওয়াল প্রসঙ্গে ‘টার্গেট’ শব্দবব্ধ উচ্চারণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার বসিরহাট মহকুমা আদালত শেখ শাহজাহানকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তভার তুলে নিয়েছে সিআইডি। এই প্রেক্ষিতে মমতা কি বলেন এইদিকে সকলের নজর ছিল? ঝাড়গ্রামের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কি প্রতিক্রিয়া সামনে আসে তা নিয়ে কৌতূহল কম ছিলনা কিন্তু সেগুড়ে বালি! সমস্ত আশায় জল ঢেলে দিয়ে ঝাড়গ্রামের সভামঞ্চ থেকে এদিন একটিও শব্দ খরচ করতে দেখাই গেলনা মুখ্যমন্ত্রীকে। চুপ করে থাকলেন মুখ্যমন্ত্রী শাহজাহানের গ্রেফতারি ইস্যুতে।

গ্রেফতারির আগেও মমতা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সন্দেশখালি কাণ্ডে খড়গহস্ত হয়েছিলেন বিজেপি-আরএসএস নিয়ে।ধর্মীয় ভেদাভেদের জন্য হিংসার পরিস্থিতি বিজেপি ও আরএসএস তৈরি করছে সন্দেশখালি জুড়ে এমন অভিযোগ করেছিলেন৷ শাহজাহানের প্রসঙ্গও তুলেছিলেন মমতা। জানিয়েছিলেন, শেখ শাহজাহানকে টার্গেট করে ইডি সন্দেশখালিতে গিয়েছিল৷ তারপর সবাইকে সেখান থেকে বের করে দিয়ে গোলামাল তৈরি করা হয়েছে৷ এরপর এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি এই নিয়ে কিছু বলতে দেখা যায়নি৷

এই সময়ে হেফাজত থেকে বাঁচতে আদালতের দ্বারস্থ হতে দেখা গিয়েছে শেখ শাহজাহানকে। আদালতে শর্ত চাপাতে দেখা গিয়েছে শাহজাহানকে আইনজীবীর মারফৎ। এরই মধ্যে বাঘের বিচরণ ক্ষেত্রে মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে গোটা দেশ। শেখ শাহজাহানের গ্রেফতারির দাবিতে লাঠি-ঝাটা-জুতো হাতে মহিলাদের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভের আঁচ টের পেয়েছে রাজ্য প্রশাসন। চাপে পরে শাহজাহান আজ গারদে। গত বুধবার বাঁকুড়ার প্রশাসনিক সভা থেকে জানিয়েছিলেন যে তিনি জ্ঞানত কোনও অন্যায়কে সমর্থন করেন না৷ ভুল ধরা পড়লে তা শোধরানোর জন্য সবরকম পদক্ষেপ করেন ? তাঁর এই বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই বৃহস্পতিবার সকালে জানা যায় যে শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷ইডির ওপর হামলার মূলচক্রী হিসেবেই শাহজাহানকে গ্রেফতার করে উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাট থানার পুলিশ ৷ এদিন এই তৃণমূল নেতাকে বসিরহাট আদালতে পেশ করা হয় ৷ আদালত ওই অভিযুক্ত নেতাকে পুলিশি হেফাজতে পাঠায় ৷ তারপর ওই নেতাকে পুলিশ নিয়ে চলে যায় রাজ্য পুলিশের সদর দফতর ভবানী ভবনে৷

কিন্তু বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রামে প্রশাসনিক সভার মঞ্চ থেকে একবারও শাহজাহানের গ্রেফতারি প্রসঙ্গ তোলেননি মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তাঁর সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন ৷ একশো দিনের কাজ, গ্যাসের দাম, আবাস যোজনা নিয়ে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন ৷ আদিবাসীদের এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন ৷ কিন্তু শাহজাহান প্রসঙ্গে একটিও কথা তিনি বলেননি ৷ কার্যত চুপ করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *