স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে পরিযায়ী শ্রমিকদেরও নাম নথিভুক্তি জরুরি সরকারি পোর্টালে

Read Time:3 Minute

24 Hrs Tv:নিজস্ব প্রতিনিধি : স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে পরিযায়ী শ্রমিকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বৃহস্পতিবার ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের বাজেটে এই প্রস্তাব রাখেন রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তবে, এর জন্য ভিন রাজ্যে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের ‘কর্মসাথী পরিযায়ী শ্রমিক পোর্টালে নাম নথিভুক্ত থাকতে হবে।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাজেট বক্তব্যে জানিয়েছেন, পরিযায়ী শ্রমিকেরা তাঁদের কর্মস্থলের হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বিমার মাধ্যমে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ বিমা সংস্থার মাধ্যমে ‘ইনশিয়োরেন্স মোড’এ পরিষেবা মিলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে পরিযায়ী শ্রমিকদের চিকিৎসা সুযোগ খাতে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নতুন এই প্রকল্পে ২৮ লক্ষের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক উপকৃত হবেন। জানা গিয়েছে, প্রায় ৪০ লক্ষ শ্রমিক ভিন রাজ্যে কর্মরত। কিন্তু সকলের নাম ‘কর্মসাথী পরিযায়ী শ্রমিক পোর্টাল’ নথিভুক্ত নেই। সরকারের কাছে নথিভুক্ত থাকা শ্রমিকেরাই গুরুতর চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভিন রাজ্যে ওই সুযোগ পাবেন। এর জন্য রাজ্য শ্রম দফতরের তরফে আধার নম্বর, কর্মস্থল ও বাসস্থানের ঠিকানা সহ উপভোক্তাদের তালিকা দেওয়া হবে স্বাস্থ্য দফতরকে।

পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভিন রাজ্যে অসুস্থ হলেও অনেকেই যথাযথ চিকিৎসা করাতে পারেন না অর্থের অভাবে। সেখানে এই প্রকল্পের আওতায় এলে অনেক সুবিধা হবে’।

বাজেটে পরিযায়ী শ্রমিকদের চিকিৎসা খাতে মোট টাকা বরাদ্দ হয়েছে, তা ২৮ লক্ষের হিসেবে মাথাপিছু বার্ষিক প্রিমিয়াম দাঁড়াচ্ছে ৫৩৬ টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রশাসনিক কর্তার কথায়, ‘কম টাকাতেও যে ভাল কিছু করা যায় সেটি বাজেটে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পই প্রমাণ’। যদিও বিরোধীদের দাবি, মাথা পিছু এত কম প্রিমিয়ামে আদৌ ভিন রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসার সুযোগ কতটা মিলবে তাতে সংশয় রয়েছে। এ ছাড়া, ভিন রাজ্যে থাকা বাকি প্রায় ১২ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক তো পোর্টালে এরপর নাম লেখাতেই পারেন। তখন তো বরাদ্দ রাতারাতি অনেকটাই বাড়াতে হবে। ওই প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, ‘টাকার পরিমাণ কোনও সমস্যা হবে না। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন মতো বরাদ্দ বৃদ্ধিও করার সুযোগ রয়েছে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *