মমতা নিয়ে সোচ্চার মোদি, অভিষেক নিয়ে চুপ, জল্পনা তুঙ্গে

Read Time:3 Minute

24 Hrs Tv:নিজস্ব প্রতিনিধি:লুটেরাদের ‘লওটাঙ্গে হ্যায় কি নেহি’? অর্থাৎ এই সরকারের পরিবর্তনের ডাক দিয়ে রাজ্যের মাটিতে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে জেতানোর ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার, আরামবাগের জনসভা থেকে সন্দেশখালিতে মা-বোনের ওপর অত্যাচার থেকে মন্ত্রীর ঘরে টাকার পাহাড়। রেশন দুর্নীতি থেকে মানুষের হকের টাকা চুরি। ইন্ডি গাঁটবন্ধন থেকে তুষ্টিকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। এদিনের জনসভা থেকে মা-মাটি-মানুষের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে আক্রমণ শানালেও আশ্চর্যজনকভাবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ‘নীরব’ থাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক মহলের চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

এখনও নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষিত হয়নি। তার আগে রাজ্যে এসে শুক্রবার একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন মোদি। আগামিকাল, শনিবার কৃষ্ণনগরেও তাঁর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালুর কথা আছে। সেখানেও বিজেপির জনসভা আছে। কিন্তু, তার আগে প্রথম রাউন্ডের আক্রমণে অভিষেকের নাম উল্লেখ তো দূরের অস্ত, তাঁকে ইঙ্গিত করেও একটি শব্দ খরচ করেননি প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে অমিত শাহ থেকে বিজেপির তাবড় কেন্দ্রীয় নেতারা মমতা-অভিষেককে জড়িয়ে পরিবারতন্ত্র রাজনীতি নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন। খোদ মোদিও একাধিকবার অভিষেককে ‘ভাতিজা’ বলে কটাক্ষ করেছেন। একুশের বিধানসভা ভোটের প্রচারেও রাজ্যের একাধিক জনসভায় বুয়া-ভাতিজা নিয়ে ধুয়ে দিয়েছিলেন মোদি। কিন্তু, এদিন আরামবাগে একটিবারের জন্যও অভিষেকের নাম তাঁর মুখে আসেনি।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগের দিনই শাহজাহানকে গ্রেফতার ও পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ মোদির হাতে মোয়া তুলে দিয়েছে। তাই এদিন সন্দেশখালি, তৃণমূলের দুর্নীতি এবং অপশাসন নিয়ে একের পর এক বোমা ফাটান। কিন্তু, দীর্ঘদিনের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু এবং বিভিন্ন মামলায় ইডি-সিবিআইয়ের আতসকাঁচের তলায় থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এদিন কেন ছাড় দিলেন, তা নিয়ে জোরাল জল্পনা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, কৃষ্ণনগরের জনসভার জন্য কিছু বক্তব্য আস্তিনের তলায় রেখে দিয়েছেন তিনি। ধীরে ধীরে সেগুলি বের করবেন। তবে, মমতা এবং তৃণমূলকে অলআউট আক্রমণ করায় রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব আহ্লাদিত। বিশেষত, সন্দেশখালি নিয়ে শাসকদল সহ ইন্ডিয়া জোটকে শূলে চড়ানোয় ভোটের প্রচারে আরও ধার আসবে বলে রাজ্য নেতৃত্বের বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *