Read Time:4 Minute

জেলের ‘নিম্নমানের খাবার’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন নওশাদ

নিজস্ব সংবাদদাতা : কথায় আছে জেল নাকি মামার বাড়ি! মামার বাড়িতে কেমন খাতির যত্ন হয় অনেকের অজানা! জেল সম্পর্কে কারোর স্বচ্ছ ধারণা আছে, কারোর বা আবছা,লোকমুখে প্রচলিত অনেকের ধারণা আছে। কিন্তু আসলে তো সেই ভালো জানবে যে জেলে গেছে প্রকৃতপক্ষে। তবে এবার জেলের ভাত কেমন হয় সেই বর্ণনা দিলেন নওশাদ সিদ্দিকি। উঠে এল কিছু ভয়ানক সত্য ভাঙরের বিধায়কের কথায়। জানালেন তিনি যখন জেলে ছিলেন তখন সেখানকার খাবারের রহস্য। তবে সেই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছেন কারামন্ত্রী অখিল গিরি। জেলবন্দি সকলের দৈনিক খাবারের খতিয়ান তুলে ধরলেন তিনি। মঙ্গলবার বিধানসভা অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে জেলের নিকৃষ্টমানের খাবার নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভাঙরের বিধায়ক। প্রশ্ন তুললেন জেলবন্দিদের জন্য কত টাকা বরাদ্দ? তাঁদের খাবার ও চিকিৎসার জন্য কত টাকা বরাদ্দ করে রাজ্য সরকার? এর উত্তরে কারামন্ত্রী বলেন বন্দিপিছু প্রতিদিনের খাওয়া বাবদ বরাদ্দ ৫২ টাকা ৫৪ পয়সা। এক একদিনের খাদ্য তালিকায় ২৫০ গ্রাম চাল, ১০০ গ্রাম ডাল,৩০০ গ্রাম সবজির মধ্যে ১০০ গ্রাম আলু থাকে। সপ্তাহে একদিন করে ৭৫ গ্রাম মাছ,সপ্তাহে একদিন ৭৫ গ্রাম মাংশ,ডিম থাকে ১ টি সপ্তাহে একদিন। এছাড়ও ২৫ গ্রাম সোওয়াবিন ও দেওয়া হয় সপ্তাহে। বাকিদিন গুলোতে থাকে নিরামিষও, বিকেলে নাকি স্ন্যাকস ও দেওয়া হয়,কি থাকে সেই স্ন্যাকসে? সেই স্ন্যাকসে নাকি থাকে ৪ টে বিস্কুট ও চা, বিকেলে টিফিনের সঙ্গে মুড়ি ও বাদাম ভাজাও দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও যারা নিরামিষভোজী জেলবন্দি থাকে তাঁদের জন্য নাকি ২৫০ মিলিমিটার দুধ বরাদ্দ থাকে।

বিধানসভায় প্রশ্ন তুলতেই উত্তরে বন্দিদের খাদ্য খতিয়ান তুলে ধরলেন কারামন্ত্রী। যদিও এই খাদ্য তালিকা শুধু নামেই দেওয়া হয় বলে অভিযোগ নওশাদের। সংবাদমাধ্যকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নওশাদ জানান জেলে যে খাবার দেওয়া হয় তা অত্যন্ত নিম্নমানের। শুধু তাই নয় এর প্রকৃষ্ট উদাহারণ দিতে গিয়ে তিনি নিজে বেশ কিছু সময় জেলে ছিলেন সেই কথাও অকপটে স্বিকার করেছেন তিনি। জানালেন’ সকালে লাল চা আসত, যে সবজির কথা বলা হচ্ছে তা আদতেই নামে, ১০০ গ্রাম ডালের মধ্যে শুধুই জল মেশানো, ৭৫ গ্রাম মাছ তো নয়,বরং তা এত পাতলা যে মাছ কাটে তাঁর হাত কেটে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।’ মাংশের ক্ষেত্রেও এত ছোট পিস যে তাতে ৭৫ গ্রাম হবে কিনা! যদিও এই অভিযোগ নসাৎ করেছেন কারামন্ত্রী। তবে কি ভাঙরের বিধায়কের প্রশ্ন তুলতেই সবার নজর যাবে কি জেলবন্দি মানুষের খাবারের ওপর? দিনের পর দিন ধরে তাঁরা জেলে কি ধরনের পরিষেবা পায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই! আদৌ কি কারামন্ত্রীর দেওয়া খাবারের খতিয়ান অনুযায়ী সেইসব বরাদ্দ থাকে? রাজ্য সরকারই বা কত টাকা খরচ করে বন্দিদের জন্য এই বিষয়েও প্রশ্ন উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *