সন্দেশখালি থানা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করল পুলিশ

Read Time:3 Minute

24 Hrs Tv:নিজস্ব প্রতিনিধি : শুক্রবার রাত ৯.৩০ মিনিট থেকে ত্রিমোনী বাজার-সহ সন্দেশখালি থানা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করল পুলিশ। সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ বিক্ষোভ উঠে গেলেও বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি ছিল, শনিবার আবার আন্দোলনে শামিল হবেন তাঁরা। এরপর শুক্রবার রাতেই বিশাল বাহিনী দিয়ে সন্দেশখালি থানা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। শুরু হয় রুটমার্চ। পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরাও শুক্রবার রাতের মধ্যেই সন্দেশখালি পৌঁছন। এরপর সন্দেশখালি থানা এলাকায় ১৪৪ ধরা জারি করে পুলিশ।অনির্দিষ্ট কালের জন্যে এই ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। বসিরহাটের মহকুমা শাসক ১৪৪ জারি করেছেন, যা ৮ টি গ্রাম পঞ্চায়েত জুড়ে কার্যকরী থাকবে।

শনিবার সকালে পরিস্থিতি এখনও থমথমে। রাস্তাঘাট শুনশান। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়দের একাংশ। বুধবার থেকে অশান্ত উত্তর ২৪ পরগনার এই এলাকা। তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখ, শিবু হাজরা এবং উত্তম সর্দারকে গ্রেফতার করার দাবিতে সন্দেশখালিতে বিক্ষোভে ফেটে পরে সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভের নেতৃত্বে মূলত মহিলারা ছিলেন। বাঁশ, দা, কাটারি নিয়ে রাস্তায় নামেন তাঁরা। ঘেরাও করা হয় সন্দেশখালি থানা।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, শাসকদলের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় অত্যাচার চালান শাহজাহানেরা। জোর করে জমি দখল করে নেওয়া হয়। কাজ করিয়ে টাকা দেওয়া হয় না। হকের টাকা চাইতে গেলে মারধর করা হয়। তৃণমূল নেতাদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি উঠেছে। শুক্রবার সকালে শিবু হাজরার তিনটে পোলট্রি ফার্মে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। পরে তাঁর মদের দোকান এবং বাগানবাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল সারা দিন অগ্নিগর্ভ ছিল সন্দেশখালির জেলিয়াখালি এলাকা। পরে বিক্ষোভকারীদের পাল্টা মারধরের অভিযোগও উঠেছে শাহজাহান বাহিনীর বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় র‌্যাফ নামানো হয়েছিল। সন্দেশখালির ঘটনায় বৃহস্পতিবার পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার আরও আট জনকে গ্রেফতার করা হয়।

অন্যদিকে সন্দেশখালি পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত সাহকে চিথি লিখেছেন। ওই চিঠিতে শেখ শাহজাহান, উত্তম সর্দার এবং শিবু হাজরার নাম রয়েছে এমনটাই খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *