সন্দেশখালিতে ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ পোস্ট শুভেন্দুর

Read Time:5 Minute

24 Hrs Tv:নিজস্ব প্রতিনিধি : সন্দেশখালি কাণ্ডে এবার মুখ খুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান, উত্তম সর্দার, শিবপ্রসাদ হাজরার অত্যাচারের সঙ্গে রাত-বিরেতে প্রতিবাদীদের বাড়িতে পুলিশি হুজ্জুতিকে ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ বলে মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে শুভেন্দুর। সন্দেশখালিতে পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের বাড়ি ভাঙচুর, মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গালিগালাজের অভিযোগ সামনে এসেছে। ভাঙচুরের ছবি ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। অভিযোগ, শুক্রবার রাত ৩টে নাগাদ সন্দেশখালির খুলনা গ্রাম পঞ্চায়েতের শীতলিয়া এলাকায় হানা দেয় পুলিশ। গ্রামে পুলিশ বাহিনী তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।

বিনা দোষে গ্রামের শিশু ও মহিলাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেন শুভেন্দু অধিকারী। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘সন্দেশখালিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। সন্দেশখালি এমন একটি জায়গা যেখানে ‘আইনের শাসন’ নেই বরং মমতা-পুলিশের সহায়তায় শেখ শাহজাহান এবং তার সহযোগী শিবপ্রসাদ হাজরা এবং উত্তম সর্দার নামের ‘শাসকদের আইন’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শাহজাহান ও তার দল বলপ্রয়োগ করে জনজাতি ও আদিবাসীদের একাংশের জমি দখল করে নেয়। তারা জোরপূর্বক খাল খনন করে মাছ চাষের জন্য স্থানীয়দের কৃষি জমি লবণাক্ত জল দিয়ে প্লাবিত করে। তাদের ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ এমনই ছিল যে তারা এসসি ও এসটি সম্প্রদায়ের মহিলাদের বাছাই করে নিত এবং রাতে জোর করে পার্টি অফিসে নিয়ে যেত। গ্রামবাসীদের নির্যাতন করা একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা ছিল এদের কাছে। সন্দেশখালির স্থানীয় মানুষরা, বিশেষ করে মহিলাদের উপর যথেষ্ট অত্যাচার হয়েছে। ইতিমধ্যেই সন্দেশখালিতে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন দেখা গিয়েছে’।

সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট বিরোধী দলনেতার আরও লেখেন, ‘বিনা দোষে শিশু সহ গ্রামবাসীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিবাদীদের বাড়িতে থাকার জন্য জোর করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ। তৃণমূলের গুন্ডারা প্রতিবাদীদের বাড়ি বেছে বেছে হামলা চালাচ্ছে। বিরোধীদের সন্দেশখালিতে যাওয়া ঠেকাতেই ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।’ । যদিও পুলিশ নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত বভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, শিবু হাজরার পোলট্রি ফার্মে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনায় এক অভিযুক্তকে ধরতে আজ ভোরে শীতলিয়া এলাকায় গেলে তারাই বাধার মুখে পড়ে। অভিযুক্তের খোঁজ মেলেনি। ভাঙচুরেরও কোনও ঘটনা ঘটেনি বলে পুলিশের দাবি। পুলিশের পক্ষ থেকে বারাসাত রেঞ্জের ডিআইজি সুমিত কুমার বলেন, ‘ পুরো এলাকায় ১৪৪ করা হয়েছে। এখন যদি কোনও ঝামেলা করে তো, যত দ্রুত সম্ভব অ্যাকশন আমরা নেব। সবাই বাড়িতে থাকুন। এলাকায় ১৪৪ করা হয়েছে। ইন্টারনেটও বন্ধ করা হয়েছে। কোনও লোক গন্ডগোল যাতে না করে। ঝামেলা করবেন না, আদারওয়াইজ খুব কপালে কষ্ট আছে’। জেলিয়াখালিতে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য শিবপ্রসাদ হাজরার ভেড়ির অফিস, মদের দোকান, পোলট্রি ফার্মে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৮ জন গ্রামবাসীকে গ্রেফতার করেছে সন্দেশখালি থানার পুলিশ। গ্রামে টহল দিচ্ছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *