অভিযুক্ত হিসেবে শাহজাহানকে আদালতে পেশের সময় হাত ধরেননি, বদলি আইসি বসিরহাট

Read Time:3 Minute

24 Hrs Tv:নিজস্ব প্রতিনিধি: বসিরহাট থানার আইসি কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলি ঘিরে বিতর্ক। গত বৃহস্পতিবার সন্দেশখালির ত্রাস শেখ শাহজাহানকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশের সময় আইসি বসিরহাট সঙ্গে ছিলেন । বিতর্ক এই জায়গাতে যে ওইদিন কোর্টরুম থেকে এজলাসের পেশের মাঝের সময় বসিরহাট থানার আইসি কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় শাহজাহানের পিছনে থাকলেও অভিযুক্ত শেখ শাহজাহানের হাত ধরেননি। দেখা গিয়েছিল বীর বিক্রমে কোর্টরুম থেকে হেঁটে এজলাসে ঢুকলেন শাহজাহান ‘আঙুল নাড়িয়ে’।

CRPC অনুযায়ী যতক্ষণ পুলিশ অভিযুক্তের শরীর স্পর্শ করছে না, ততক্ষণ গ্রেফতারি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়না। CRPC’র এই নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে বদলি হতে হল বসিরহাট থানার আইসি কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুক্রবারই বদলির নির্দেশ এসেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, কাজলকে সিআইডি ইনস্পেক্টর হিসাবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় আইসি হয়েছেন রক্তিম চট্টোপাধ্যায়। তিনি পূর্ব বর্ধমানের সিআই ছিলেন। বসিরহাটের পুলিশ সুপার হোসেন মেহেদি রহমানের দাবি, এটা রুটিন-বদলি। যদিও এতে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না।

যেভাবে শাহজাহানের গোটা আদালতে পেশের প্রক্রিয়া সামনে এসেছে তাঁতে দেখা যাচ্ছে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক থেকে শুরু করে পুলিশ কর্মচারিরা তটস্থ ছিল হাইপ্রোফাইল এই অভিযুক্তকে নিয়ে। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পরেও সন্দেশখালির ত্রাসের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে কোনও হেলদোল দেখা যায়নি। সিংহ বিক্রমে বিশ্বজয় করেছেন এমনই ছিল শাহজাহানের ওই সময়ের মানসিকতা সঙ্গে চরম ঔদ্ধত্য আঙুল নাড়িয়ে। এসবে নিন্দার ঝড় ওঠে।

সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তী বলেন, “বৃহস্পতিবার কোর্টে শাহজাহানকে দেখে মনে হয়েছিল, বিশ্বজয় করে ফিরেছেন। পুলিশকে মনে হয়েছিল তাঁর দেহরক্ষী!” বসিরহাটের কংগ্রেস নেতা হিরণ্ময় দাস বলেন, “বৃহস্পতিবার আদালতে আইসি শাহজাহানের হাত না-ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন। হয়তো মুখ্যমন্ত্রী এই ছবি দেখে রেগে গিয়ে তাঁকে বদলি করে দিয়েছেন।” বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ, “পুলিশ, নেতা, মন্ত্রী, শাহজাহান— সকলেই যেন এক পরিবারের সদস্য!”

রাজ্যের সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক বলেন, “আইসির বদলি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। এটা নিয়ে মন্তব্য করব না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *