ইডির বিশেষ আদালতে শাহজাহানের আইনজীবির ‘বেপরোয়া’ শর্ত আরোপ

Read Time:4 Minute

24 Hrs Tv:নিজস্ব প্রতিনিধি : সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা ছিল শেখ শাহজাহানের। কিন্তু তৃতীয় বার হাজিরা এড়িয়ে গেলেন সন্দেশখালির ‘বাঘ’। এদিনই ব্যাঙ্কশাল আদালতে শেখ শাহজাহানের জামিন মামলার শুনানি ছিল। শুনানিতে শাহজাহানের আইনজীবি ইডির বিশেষ আদালতে আবেদন রাখে ইডিকে ‘নিশ্চয়তা’ দিতে হবে তাঁর মক্কেলকে গ্রেফতার করা যাবেনা। যদিও ইডির আইনজীবি এই আবেদন পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে।

রেশন দুর্নীতি কান্ডে ‘পলাতক’ শেখ শাহজাহানের জামিন মামলার শুনানি ছিল সোমবার। শাহজাহানের আইনজীবী জানান, ‘ইডি যদি বলে তাঁর মক্কেলকে গ্রেফতার করা হবে না, তা হলে তিনি হাজিরা দিতে পারেন। অথবা আদালতে এই আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ইডি তাঁর বিরুদ্ধে সমন জারি করা থেকে বিরত থাকুক’। প্রসঙ্গত, গত বুধবার থেকে শাহজাহান এবং তার দলবলকে গ্রেফতারের দাবিতে স্থানীয় মহিলারা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে রাজ্য প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এই আবহে সন্দেশখালিতে সোমবারই রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসকে হাতের কাছের পেয়ে নিরাপত্তার, সম্ভ্রম রক্ষার কাতর আর্জির পাশাপাশি ‘ওরা যদি ফিরে আসে’ এমন আশঙ্কাও জাহির করেছেন ওই অঞ্চলের ভুক্তোভোগী মহিলারা।

সেই অভিযুক্ত শাহজাহানের আইনজীবির এমন ‘শর্ত আরোপ’ আদালতে এককথায় তাজ্জবের। পাল্টা ইডির আইনজীবি ভরা আদালতে বিচারকের সামনে জোরালো যুক্তিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন,’এটা তো ‘ঠাকুরঘরে কে, আমি তো কলা খাইনি’র মতো বিষয় হয়ে গেল। ওর (শাহজাহানের) বাড়িতে কেবল তল্লাশি চালাতে যাওয়া হয়েছিল। আমাদের দিকে পাথর ছোড়া হয়েছে, আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এত কিছুর পরে আমরা কোনও দায়িত্ব নিতে পারব না’।

বিচারক শাহজাহানের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, কেন ইডির ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি হাজিরা দিচ্ছেন না? উত্তরে আইনজীবী বলেন, ‘শাহজাহানের বিরুদ্ধে ওঁরা দুর্নীতির টাকা বিদেশে পাঠানোর অভিযোগ করছেন। আমার মক্কেলকে প্রভাবশালী, মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বলছেন। আগাম জামিন দেওয়া হচ্ছে না। তাই আমার মক্কেল গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা করছেন’।

আজ সারাদিন বিধানসভার ভিতরে এবং বাইরে সন্দেশখালি ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। রাজ্যপাল বোসকে নাগালে পেয়ে তাঁর হাতে রাখি পরিয়ে শাহহাজান বাহিনীর হাতে অত্যাচারিতা ভুক্তভোগী মহিলাদের কাতর আর্জি, ‘আপনারা চলে গেলে আমাদের যে অবস্থা হবে তা আরও ভয়ঙ্কর হবে। আমরা এরপর মুখ তুলে তাকাতে পারব না। ১৩ বছর ধরে যা অত্যাচার হচ্ছে, তার থেকেও ভয়ঙ্কর হবে’। রাজ্যপালের সন্দেশখালি সফর থেকে আশ্বাস আর একরাশ শূণ্যতা ভুক্তভোগী মহিলাদের সারাদিনের প্রাপ্তি। এমনই দিনে ইডির বিশেষ আদালতে দাঁড়িয়ে শেখ শাহজাহানের হয়ে তাঁর আইনজীবির ‘বেপরোয়া’ শর্ত আরোপ রাজ্যে ‘আইনের অনুশাসন’কে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *