তদন্তে অসহযোগিতা শাহজাহানের, জিঞ্জাসাবাদের মুখে নীরবতা, হেফাজতে বাঘের ‘ফন্দি-ফিকির’

Read Time:5 Minute

24 Hrs Tv:শান্তনু ব্যানার্জি: সন্দেশখালিতে ইডির ওপরে হামলার ঘটনার ৫৫ দিন পর, অবশেষে গ্রেফতার করা হয় শেখ শাহজাহানকে। বসিরহাট মহকুমা আদালত ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে সন্দেশখালির ‘বাঘ’কে। আপাতত তাঁর ঠিকানা ভবানী ভবন সিআইডি সদর দফতর।

CID হেফাজতে জিঞ্জাসাবাদ চলছে শেখ শাহজাহানের। তদন্তভার নিয়েছে রাজ্যের গোয়েন্দা দফতর। জানা যাচ্ছে, দুঁদে গোয়েন্দাদের জিঞ্জাসাবাদের মুখোমুখি হয়ে বারে বারে মেজাজ হারিয়ে ফেলছেন শেখ শাহজাহান। জিঞ্জাসাবাদে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। চূড়ান্ত অসহযোগিতা করছেন শাহজাহান, এমনটাই খবর। শুধু তাইই নয়, বারে বারে একই প্রশ্ন কেন জানতে চাওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও নিজের বিরক্তি প্রকাশ করেছেন গোয়েন্দাদের কাছে, শোনা যাচ্ছে এমনটাও।

হেফাজতের বাইরে যেমন দাপট ছিল শাহজাহানের, তেমনই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ হেফাজতে থাকাকালীন সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশার’। অকুতোভয় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। কার নির্দেশে সন্দেশখালিতে ৫ জানুয়ারি ইডির ওপর হামলা-এই প্রশ্নের জবাবে নীরব শাহজাহান। চুপ করে থেকে সময় বার করতে চাইছেন, এমনটাই মত গোয়েন্দা সূত্রে। তবে দুঁদে গোয়েন্দারাও নাছোড়বান্দা। তাঁরাও শাহজাহানের এই কৌশল বুঝতে পেরে কার নির্দেশে সন্দেশখালিতে ৫ জানুয়ারি ইডির ওপর হামলা এই প্রশ্নকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জানতে চাইছেন। গোয়েন্দারা মনে করছে, একই প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে একটা সময় আসবে নীরবতা ভাঙতে বাধ্য হবেন শাহজাহান। পেণ্ডুলাম থেকে বের হবে অনেক অজানা তথ্য।

গোয়েন্দারা মনে করছে, হাতে ১০ দিন সময়। এই সময়টা মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে ক্রুসিয়াল। নতুন তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই রিমান্ডের মেয়াদ বাড়ানোর পিটিশন করা যেতে পারে। তাই এই ১০ দিন চ্যালেঞ্জিংও। বিচারক ১০ দিনে তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইবে। নতুন কি ইনপুট উঠে আসল তা বিবেচ্য হয়ে উঠবে। তাই এই সময়ে শেখ শাহজাহানের নীরবতা জিঞ্জাসাবাদ প্রক্রিয়াতে বড় বাঁধা এবং তদন্তকারীদের কাছে চ্যালেঞ্জের।

বৃহস্পতিবারই পুলিশ আদালতে জানিয়েছে, ইডির ওপর হামলার মাস্টারমাইন্ড শেখ শাহজাহান। কার নির্দেশে ইডি ও সিআরপিএফের ওপর হামলা হল? এই তথ্য মামলার ক্ষেত্রে ভীষণ জরুরি গোয়েন্দা সূত্রে এমনটা জানা যাচ্ছে। কেননা, ইডির এফআইআরে শাহজাহান বাহিনীর বিরুদ্ধেও অভিযোগের পাশাপাশি ইডির নথি ছিনতাই’র অভিযোগ রয়েছে। তাই অনুগামীদের ধরা এবং নথি উদ্ধারের ক্ষেত্রে শাহজাহানের মৌনব্রত পালন জিঞ্জাসাবাদে বড় বাঁধা। আগামী দিনে, এই প্রশ্নের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে অনুগামীদের ধরপাকড় এবং নথি উদ্ধার। শাহজাহান বুঝেশুঝেই সময় কাটানোর জন্যে, জিঞ্জসাবাদে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার জন্যে এই কৌশল নিলেও গোয়েন্দারা হার মানতে নারাজ।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোরে মেডিকেল টেস্ট করা হয় শাহজাহানের।খাবার খাচ্ছেন না শেখ শাহজাহান।বৃহস্পতিবার সারা রাত ঘুমোননি। এসবই হচ্ছে কৌশল হেফাজতে থাকাকালীন, গোয়েন্দা সূত্রে খবর। এই কৌশলকে মোটেও অস্বাভাবিক বলে দেখছে না তদন্তকারীরা। লোহা গরম আছে। এই সময়েই যত খুশি হাতড়ির বাড়ি মারা যেতে পারে। কারণ লোহা গরম থাকা অবস্থায় তাঁকে যেকোন আকার দেওয়া যেতে পারে। তাই এই ১০ দিন টানা লাগাতার জিঞ্জসাবাদ চলবে। নতুন ইনপুট আদায়ের জন্যে কার নির্দেশে ইডি ও সিআরপিএফের ওপর হামলা হল? এই প্রশ্ন এতটাই গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রশ্নের থেকে যে লিড উঠে আসবে তা গোটা তদন্তের অভিমুখ পর্যন্ত ঘুরিয়ে দিতে পারে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *