গোলের বন্যায় ইরানকে ভাসিয়ে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু

Read Time:6 Minute


24Hrs Tv, সৌরভ দত্তঃ কাতারের খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ইরানের বিপক্ষে অর্ধ ডজন গোল পূর্ণ করে ইংল্যান্ড। ইরানকে হারায় ৬-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে। ইংল্যান্ডের পক্ষে পাঁচজন ফুটবলার গোল পেলেন।
তারা হলেন জুড বেলিংহ্যাম, বুকাইয়ো সাকা, রহিম স্টার্লিং, মার্কাস রাশফোর্ড, জ্যাক গ্রিলিশ। এরমধ্যে আর্সেনালের ইংলিশ মিডফিল্ডার সাকা জোড়া গোল করেন। ম্যাচে ইংল্যান্ড চরম পর্যায়ের আধিপত্য দেখিয়েছে। ৭৯ শতাংশ বল দখলে রাখার পাশাপাশি ইরানের চেয়েও দ্বিগুণ আক্রমণ সংগঠিত করেছে থ্রি লায়নসরা।


ম্যাচের শুরু থেকে ইরানকে চাপে রাখে ইংলিশ ফুটবলাররা। শুরু থেকে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে হ্যারি কেইন, স্টার্লিংরা।

ম্যাচে ইংল্যান্ড প্রথম সবচেয়ে কঠিন আক্রমণ করে ৮মিনিটে। তবে ডানপ্রান্ত থেকে হ্যারি কেইনের করা সেই ক্রস কেউ মাথা ছোঁয়াতে না পারায় গোল থেকে বঞ্চিত হয় ইংল্যান্ড।
তবে সেই আক্রমণের কারণে পিছিয়ে যায় ইরান। মূল গোলরক্ষক আলি রেজা আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়। এরপর আক্রমণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় ইংলিশরা।
ম্যাচের ৩২তম মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই বসেছিল ইংল্যান্ড। তবে হ্যারি ম্যাগুয়েরোর হেড গোলবারে আঘাত পেয়ে ফিরে গেলে আক্ষেপে পুড়তে হয় ইংলিশ সমর্থকরা।
তবে প্রথম গোলের জন্য এরপর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তাদের। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে গোল পান বেলিংহ্যাম। বাম প্রান্ত থেকে লুক শ’র দারুণ এক ক্রস থেকে হেডে বল জালে জড়ান ১৯ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।


বেলিংহ্যাম দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে গোলের দেখা পেলেন। তার আগে ১৯৯৮ সালে মাইকেল ওয়েন ১৮ বছর বয়সে গোল করেছিলেন।
প্রথম গোল পাওয়ার পর আরও ভয়ানক হয়ে ওঠে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ। খেলার ৪৩ মিনিটে এবার গোল পান সাকা। ইরানের ডি বক্সে জালের খোঁজ করতে থাকা ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের মধ্যে বল পেয়ে যান সাকা।
সেখান থেকে ডান পায়ের দারুণ ভলিতে বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি আর্সেনালের এই স্ট্রাইকার। সেই গোল পাওয়ার ৩ মিনিট পরে আবারও ইরানের জালে বল জড়ায় ইংল্যান্ড।
শুরুর দিকে ইরানের গোলরক্ষকের ইনজুরি সমস্যার কারণে লম্বা সময় নষ্ট হয়। ফলে প্রথমার্ধে ১৪ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। এর ১মিনিটে জালের দেখা পান চেলসির জার্সিতে দারুণ ফর্মে থাকা স্টার্লিং।
এই গোলের জন্য অবশ্য ইরানের ভুলকেই দায়ী করা যায়। ডিফেন্ডাররা বল হারিয়ে ফেললে সেখান থেকে বল পেয়ে যান বেলিংহ্যাম। তিনি সামনে ডানে কেইনের উদ্দেশ্যে বলটি বাড়িয়ে দেন। কেইনের ক্রস থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়ান স্টার্লিং।
বিরতির পর মাঠে নেমে আবারও গোলের বন্যা শুরু করে ইংল্যান্ড। খেলার ৬০তম মিনিটে স্টার্লিংয়ের দারুণ অ্যাসিস্টে ব্যবধান ৪-০ করেন সাকা।
ইরানের জালে হালি পূর্ণ করার পর গোল হজম করতে হয় সাউদগেটের দলকেও। খেলার ৬৫তম মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে গোল আদায় করে নেয় ইরানের স্ট্রাইকার মেহদি তারেমি।
গোল করার ঠিক ১ মিনিট আগে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ইরানের এই স্ট্রাইকার। গোল হজম করার পর ইংল্যান্ড আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠেন।


৭০তম মিনিটে মাঠে নেমেই গোল করে ইংলিশদের এগিয়ে দেন মার্কাস রাশফোর্ড। অধিনায়ক কেইনের দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে বসেন ম্যানইউয়ের এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
এদিকে বদলি হিসেবে নামা জ্যাক গ্রিলিশও পান গোলের দেখা। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে আরেক বদলি উইলসনের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন ম্যানসিটি তারকা।


অর্ধ ডজন গোল হজম করে মরিয়া হয়ে ওঠে ইরান। খেলায় ১০ মিনিট ইনজুরি সময় দেওয়া হয়। এই সময়ে বেশি আক্রমণ করে এশিয়ার দলটি। তবে ভাগ্য সহায় হচ্ছিল না তাদের। কারিমির দারুন এক শট অসাধারণ রিফ্লেক্সে ঠেকিয়ে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ড।
তবে শেষ পর্যন্ত আরেকটি গোল আদায় করে ছাড়ে ইরান। ইনজুরি সময়ের শেষ মিনিটে ভিএআরের কল্যাণে পেনাল্টি পায় ইরান। সেখান থেকে নিজের জোড়া গোল করে ব্যবধান কমায় ইরান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *