পাকিস্তান থেকে টাকা এসেছে বিজেপির ফান্ডে: বিস্ফোরক দাবি মহম্মদ সেলিম

Read Time:4 Minute

24 Hrs Tv:নিজস্ব প্রতিনিধি: নির্বাচনী বন্ডের তথ্য সামনে আসতেই উত্তাল জাতীয় রাজনীতি৷ এবার এই ইস্যুতে মোদি-মমতাকে একযোগে নিশানা করলেন সিপিএম নেতা তথা রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম৷ তাঁর কথায়, পুলওয়ামাকাণ্ডের পর নির্বাচনী বন্ডে পাকিস্তান থেকে টাকা এসেছে বিজেপির ফান্ডে৷ কর্পোরেট কোম্পানির শ্রমিক প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি দাবি করেন, বাংলার প্রতিনিধি হিসেবেই সীতারাম ইয়েচুরি রাজ্যসভার সাংসদ থাকাকালীন ২০১৭ সালে এই নির্বাচনী বন্ডের বিরোধিতা করেন । পরে সুপ্রিম কোর্টে মামলায় জিতে এসেছেন। প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সিপিএম নেতার বক্তব্য, “আমরাই প্রথম ২০১৭ সাল থেকে নির্বাচনী বন্ডের বিরোধীতা করে আসছি। আদালতে গিয়েছি দীর্ঘদিন, জয়ী হয়েছি। এমনকী, এই নির্বাচনী বন্ড নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আজ যা যা বলছে সেই অভিযোগের কথা বহু আগে থেকেই সিপিএম বলে এসেছিল। এ কারণে মোদি-মমতা চেয়েছিল সিপিএম সংসদে না থাকুক, বিধানসভায় না থাকুক। ফলে এখন সাধারণ এবং এই চুরি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদে কারা কথা বলবে। মানুষের ঐক্যের কথা কারা বলবে, বেকার ছেলেমেয়েদের কাজের কথা কারা বলবে। মাফিয়া রাজ চলছে দেশে। বেআইনিভাবে কর্পোরেট লুটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিজ্ঞাপনের মোড়কে সমস্ত দুর্নীতিকে ঢাকার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারি বরাত পেতে ঘুষের ব্যবস্থা নির্বাচনী বন্ড।”

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “নির্বাচনী বন্ড সবথেকে বড় দুর্নীতি । এই দুর্নীতির টাকাই সবথেকে বেশি লাভবান হয়েছে বিজেপি, তারপরে তৃণমূল। কোথা থেকে এল এই টাকা? ওষুধের দাম বাড়িয়ে ওষুধ কোম্পানিগুলো এই টাকা দিয়েছে। এই টাকা মোদি আর মমতা ভাগ করেছে। আমাদের খনি আমাদের বন্দর, এসবের টাকা এইভাবে চুরি হয়েছে। সন্দেশখালি থেকে গোটা রাজ্যকে যেমন তৃণমূল খালি করেছে, তেমনই ব্যাঙ্ক খালি করে দিয়ে গোটা দেশের টাকা মোদি লুট করেছে। এ কারণেই আজকে মমতা চুপ, মোদিও চুপ। নাটক করছে তারা৷ এখন সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সিপিআইএম গর্বের সঙ্গে বুক ফুলিয়ে বলতে পারে, তারা এই দুর্নীতির টাকা খায়নি ।”

মোঘল সাম্রাজ্যের পতনের কাহিনীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মনে রাখতে হবে , ঔরঙ্গজেবের হাতে বন্দি হয়েছিলেন সম্রাট শাহজাহান। আর আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাত দিয়ে নিজের রক্ত মোছার ক্ষমতা তার নেই। রাজ্যের মানুষকে বাঁচাবেন কীভাবে? আমার সব মধ্যবিত্তর বাড়িতে ফাস্ট এডেড ব্যবস্থা থাকে। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ছিল না? উনি নিজেই বলেছিলেন বোরোলিনের পরিকল্পনা দিয়েছিলেন। বাড়িতে বোরোলিন ছিল না? কেউ রক্ত মুছে দিল না? ইন্দিরা গান্ধির হত্যার পর মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী এরকম হেভিওয়েটদের বাড়িতে ২৪ ঘণ্টা ডাক্তারের ডিউটি থাকে। তারা কী করল?”

যেদিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচনী বন্ডের তথ্য প্রকাশ পায় সেইদিন সন্ধেতে কপালে আঘাত পান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তাতে কার্যত ঘি ঢেলে তৃণমূলের পারিবারিক গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তথ্য তুলে ধরেছেন মহম্মদ সেলিম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *