ঝড়বিধ্বস্ত ময়নাগুড়ি জুড়ে ত্রাণের জন্যে হাহাকার

Read Time:4 Minute

24 Hrs Tv:নিজস্ব প্রতিনিধি: ৭৫ কিমি বেগে ৪ মিনিটের মিনি টর্নেডোয় লন্ডভন্ড জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার। ৫ জনের মৃত্যু, আহত দেড়শোরও বেশি। এই পরিস্থিতিতে, দিলীপ ঘোষ বিজেপি প্রার্থীর মন্তব্য, “ঝড় হলে বা কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে তৃণমূলের পোয়া বারো। তারা কামাইয়ের সুযোগ পায়। পকেটে টাকা ঢোকে তৃণমূল নেতাদের। আমরা দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকি। কিন্তু টাকার ফিরিস্তি দিই না।” অন্যদিকে, মঙ্গলবার চালসার চার্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের বক্তব্যে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে থাকারই বার্তা দিয়েছেন।

মমতার কথায়, আদর্শ আচরণ বিধি মেনেই সব কাজ করা হবে। ঝড়ে ৫০০০ বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসন নিয়ম মেনে যা করার তাই করবে। কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা। বিধ্বংসী ঝড়ের একদিন পরেও এলাকায় প্রশাসনের তরফে পর্যাপ্ত ত্রাণ না পৌঁছানো নিয়ে ক্ষুব্ধ ক্ষতিগ্রস্তরা। স্থানীয় দুটি স্কুলে আশ্রয় শিবির খোলা হয়েছে। কিন্তু কোনও বাসিন্দাই নিজেদের বাড়ির ধ্বংসস্তূপ ছেড়ে সেই শিবিরে উঠতে নারাজ। ফলে শিবির কার্যত ফাঁকাই থাকছে। প্রশাসনের দেওয়া ত্রিপল কোনওক্রমে লাগিয়ে মাথা গোঁজার প্রস্তুতিতেই ব্যস্ত থাকলেন ক্ষতিগ্রস্তরা। যদিও সেই ত্রিপল নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে।
ঝড়ে শতাধিক গোরু, ছাগল ছাড়াও অসংখ্য হাঁস, মুরগির মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা ভোম্বল রায় বলেন, ‘তিনটি গোরুর মধ্যে দুটির দেহ পাওয়া গিয়েছে, একটি নিখোঁজ। গোরুর দুধ বিক্রি করে সংসার চালাতাম। এখন কীভাবে পেট চলবে জানি না।’

বার্নিশ ভাতিরবাড়ি এলাকার কাকলি রায় এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। ঝড়ে কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে যাওয়ার পর এদিন বাড়ির সামনে চোখের জল ফেলছিল। ওই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘রবিবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খোলা আকাশের নীচে রাত কেটেছে৷ প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা না করলে ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব।’

ঝড়বিধ্বস্ত ময়নাগুড়ির বার্নিশ, মাধবডাঙ্গা-২ এবং ধর্মপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হাজারেরও বেশি তরুণ ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। সেই উপার্জিত অর্থ দিয়ে ঘর বানিয়েছেন অনেকে। পরিশ্রমের টাকায় বাড়ি বানিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই বাড়ি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছেন সবাই। মাধবডাঙ্গার বাসিন্দা জীবন রায় বলেন, ‘ছেলে সাত বছর ধরে কেরলে শ্রমিকের কাজ করে। ছেলের পাঠানো টাকায় বাড়িতে তিনটে পাকা ঘর তৈরি হয়েছিল। ঝড়ে আর কোনও ঘর অবশিষ্ট নেই।’ একদিকে, ত্রাণের জন্যে হাহাকার। অন্যদিকে, এনিয়ে জলপাইগুড়ির জেলা শাসক শামা পারভিন জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *